Windows VPS/RDP Server Only - $9.99/month (৯৯৯টাকা)

Get 40% Discount - Web Hosting and WordPress Hosting.

Contact Info

SA Khaleq Plaza, Gabtoli, Mirpur, Dhaka-1216

+88 01531693993

contact@cloudwavebd.com

Get Started

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি ব্যবসা পদ্ধতি যেখানে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য প্রোডাক্ট বা পরিষেবা বিজ্ঞাপন করে এবং তাদের পার্টনার হয়ে অন্য লোকদেরকে ঐ প্রোডাক্ট বা পরিষেবা বিক্রি করতে উৎসাহিত করে। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে কেউ যদি কোনো লিঙ্ক বা ব্যানার দিয়ে প্রোডাক্ট কিনে তাহলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কিছু কমিশন পায়। এভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মানুষ টাকা আয় করতে পারেন। বিশেষত, সম্প্রতি অনলাইনে এই মাধ্যমে টাকা আয়ের সুযোগ বেশি বাড়ছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আধুনিক জগতের মার্কেটিং প্রক্রিয়ার অনেক জনপ্রিয় মাধ্যম। অ্যাফিলিয়েট শব্দের বাংলা অর্থ অধিভুক্ত। কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রমোট করা বা বিক্রি করে কমিশন নেওয়া কে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। 

সহজভাবে বলতে গেলে, কোন প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের আওতায় পণ্য বিক্রি করার প্রক্রিয়াকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা যায়। সাধারণ মার্কেটিং থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটু আলাদা। 

ধরুন আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে। আপনি মার্কেটিং খরচ কমানোর জন্য বা সেল বাড়ানোর জন্য কি করা যায়, তা নিয়ে চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আপনার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। আপনাকে শুধু আপনার পণ্য বিক্রি করার উপরে উক্ত মার্কেটারকে কিছু কমিশন দিতে হবে। 

সেই কমিশনের উপর ভিত্তি করে সে আপনার পণ্যের মার্কেটিং করে সেল বাড়িয়ে দিবে। এতে আপনার এক্সট্রা মার্কেটিং খরচ অনেকাংশেই কমে যাবে। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত কোম্পানি অ্যামাজন বা আলি- এক্সপ্রেস অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতি বছর পণ্য বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করছে। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি সহজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে পারবেন। এটি এমন একটি বিজনেস মডেল যা সময়ের সাথে সাথে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনলাইনে ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক ভালো একটি মাধ্যম। এজন্য আপনাকে কীভাবে এগোতে হবে তা নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো। 

ওয়েবসাইটঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজন পরে উৎস বা সোর্স এর। অর্থাৎ আপনাকে যে অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট দেওয়া হবে তা প্রমোট করার জন্য একটি প্লাটফর্ম প্রয়োজন পরবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট হিসেবে ব্লগ অনেক জনপ্রিয়। অ্যাফিলিয়েট প্লাটফর্মগুলো ব্লগ ওয়েবসাইটকে প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর জন্য বেশি প্রাধান্য দেয়।

যাইহোক, অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে চাইলে একটি ব্লগ আপনার কাছে হতে পারে এল ডোরাডো। প্রথমে পুরো মার্কেট রিসার্চ করে আপনাকে একটি ভালো মানের নিস বা বিষয় নির্বাচন করবেন। যে নিস সিলেক্ট করবেন তার উপর নির্ভর করে ওয়েবসাইট  তৈরি করে তাতে কনটেন্ট দিতে হবে। যখন সেই কনটেন্টগুলো পড়ার জন্য সাইট এ ভিজিটর আসবে কেবল তখনই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করলে সম্মতি পাওয়া যাবে। 

HostingBear– এর মধ্যেও আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয় করতে পারেন। আমাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যোগ দিতে এই লিংকে গিয়ে সাইন আপ করুন: https://portal.hostingbear.online/affiliates.php

অ্যাফিলিয়েট ব্লগগুলো সাধারণত ইনফো এবং মানি আর্টিকেল এর সমন্বয়ে তৈরি হয়। অর্থাৎ কিছু আর্টিকেল নির্বাচিত প্রোডাক্ট সম্পর্কে বর্ণনা করে এবং কিছু আর্টিকেল প্রোডাক্ট এর ভালো মন্দ বর্ণনা করে। এই তথ্যের উপরে ভিত্তি করেই একজন ভিজিটর সম্ভাব্য কাস্টমারে পরিণত হয়। মোটকথা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার কাস্টমারের কাছে পণ্য নিয়ে ভার্চুয়াল ভাবে পৌঁছাতে হবে। 

ইউটিউব চ্যানেলঃ আমরা জানি ইউটিউব হলো জনপ্রিয় একটি ভিডিও প্লাটফর্ম। যেখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকারের ভিডিও আপলোড হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ সেই ভিডিও গুলো দেখে। সাধারণ মানুষের যখন একটি প্রোডাক্ট ক্রয় করার চিন্তা-ভাবনা করে তখন তারা সামনাসামনি দেখে নিতে পছন্দ করে। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সেক্টরে যখন কোন পণ্য ক্রেতার কাছে সঠিক ভাবে বর্ণনা করা হয় তখন তা ভ্যালু ক্রিয়েট করে। কোন অ্যাফিলিয়েট পণ্য প্রমোট করার জন্য লেখার থেকে ভিডিও মাধ্যম অনেক বেশি কার্যকরী। কারণ ভিডিও এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতা সেই পণ্যেটি সামনা-সামনি দেখে ভালো মন্দ বিচার করতে পারে। 

আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে আগ্রহী হন তাহলে একটু ইউটিউব চ্যানেল আপনার জন্য পারফেক্ট একটি সোর্স হতে পারে। সেখানে আপনাকে আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে হবে। সেই ভিডিও দেখে ডেসক্রিপশনে থাকা লিংক থেকে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কিনলে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। 

ই-মেইল মার্কেটিংঃ ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার আরেকটি অন্যতম মাধ্যম। আপনি কাস্টম মেইল সার্ভার ইউজ করে অথবা ফ্রি মেইল সার্ভিস ইউজ করে মার্কেটিং করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রথমে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের অ্যাপ্রুভাল পেতে হবে। তারপর পটেনশিয়াল কাস্টমারদের ই-মেইল সংগ্রহ করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট লিংক সহ মেইল টেম্পলেট তৈরি করে তা উক্ত মেইল অ্যাড্রেসে পাঠিয়ে দিতে হবে। এখানে আপনার ক্রিয়েটিভিটির উপর নির্ভর করে সেল জেনারেট হবে। 

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংঃ আজকাল ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে অনেক মানুষ দেখতে পারবেন যারা শর্ট ভিডিও বা রিলস তৈরি করে ভিউয়ারদেরকে ইনফ্লুএন্স করে। আপনি নিজে যদি এরকম ইনফ্লুএন্সার হন তাহলে শর্টস বা রিলস ভিডিও এর মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারবেন। এতে মনিটাইজেশনের ইনকামের সাথে সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকেও ইনকাম করতে পারবেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনি বিভিন্ন কারণে করতে পারেন। এটি অনলাইনে ডলার ইনকাম করার জন্য অন্যতম সফল মাধ্যম। একজন মার্কেটারের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করা দরকার তা নিচে বর্ণনা করা হলো। 

অভিজ্ঞতা অর্জনঃ ধরুন আপনি একজন মার্কেটার যিনি ভবিষ্যতে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন বিজনেস শুরু করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ সম্প্রতি শুরু করা কোনো বিজনেস যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে সেখানে ইনভেস্ট করা অর্থ এবং সময় দুটোই নষ্ট হয়ে যাবে। কোনো বিজনেস কীভাবে পরিচালিত হয় এবং সেখানে কি কি সমস্যার উদ্ভব হয় তা না জানলে সেগুলো সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পরবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে একজন মার্কেটার বিজনেস মডেল সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করবে। এতে নতুন কোনো বিজনেস শুরু করা তার জন্য অনেক সহজ হবে। 

ক্যারিয়ার তৈরিঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুধু একটি অনলাইনে ইনকাম করার পদ্ধতি নয়, একটি সুন্দর এবং সুরক্ষিত ক্যারিয়ার তৈরি করার জন্যও অনেক কার্যকরী মাধ্যম। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অনেকগুলো বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয় যাদের মধ্যে আছে এসইও, ওয়েবসাইট মেইন্টেইন, মার্কেটিং, অর্থনীতি, কনটেন্ট রাইটিং সহ অন্যান্য বিষয়। 

এ সকল স্কিল দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা ফুল টাইম জব করতে পারবেন। যা আপনার অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সব থেকে বেশি কার্যকরী হবে। 

ইনকাম সোর্সঃ একটি শক্তিশালী ইনকাম সোর্স প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে। আমরা লেখা পড়া করি এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। সরকারি বা বেসরকারি চাকরির দুনিয়া থেকে বের হয়ে স্বাধীন ভাবে আয় করার একমাত্র মাধ্যম হলো ব্যবসা। 

কিন্তু মূলধন ঘাটতি সহ অন্যান্য প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আমরা চাইলেই বিজনেস করতে পারি না। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এই সব প্রতিকূলতার ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের জন্য একটি সুরক্ষিত ইনকাম সোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। 

মোটকথা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার কারণে একাধারে আমাদের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে তেমনি ইনকাম সোর্স তৈরি হবে। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা অসুবিধা

প্রতিটি সেক্টরের মত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এও সুবিধা অসুবিধা আছে যা নিচে দেওয়া হলো। 

সুবিধাঃ 

  • প্যাসিভ ইনকামঃ প্যাসিভ ইনকাম করার অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এখানে একটি ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলের সাহায্যে পরোক্ষ আয়ের একটি কার্যকরী রাস্তা তৈরি হয়। 
  • পণ্য তৈরির ঝুঁকি নেইঃ যেহেতু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ অন্য কারো পণ্য বিক্রি করতে হয় সেহেতু পণ্য তৈরি বা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। অর্থাৎ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে হবে না। এতে যেমন উৎপাদন খরচ লাগবে না তেমনি বিপণন খরচও দিতে হবে না। 
  • স্বাধীনতাঃ আপনি আপনার পছন্দ মত সময়ে আপনার ট্র্যাফিক সোর্স হালনাগাদ করতে পারবেন। নিজ ইচ্ছে মত সময়ে কাজ করা যায় জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি স্বাধীন পেশা। এখানে অন্য কারো আদেশে বা সিদ্ধান্তে আপনাকে কাজ করতে হবে না। 
  • ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে মার্কেটার এবং শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি হয়।

আসুবিধাঃ

  • প্রতিযোগিতাঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সেক্টরে অকল্পনীয় প্রতিযোগিতা বিরাজ করে। এ কারণে খুব কম মানুষ এই জগতে সফলতা অর্জন করে। 
  • কমিশন ভিত্তিক ইনকামঃ কোন পণ্য যখন বিক্রি হবে তখন অ্যাফিলিয়েট কমিশন অ্যাকাউন্টে যোগ হয়। এই পদ্ধতি একজন কাস্টমারকে সবগুলো প্রসেস অনুসরণ করে পণ্য ক্রয় করা পর্যন্ত নিয়ে যেতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। 
  • সময় সাপেক্ষঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এখানে প্রচুর সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়, নাহলে সফলতা পাওয়া যায় না। 
  • অনিশ্চয়তাঃ এখানে যেহেতু পণ্য বিক্রি হওয়ার পরে আয় হত সেহেতু কোন কারণে পণ্য বিক্রি কম হলে আয় কমে যায়। অর্থাৎ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং জগতে ইনকাম নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। 

সঠিক পদ্ধতিতে অ্যাফিলিয়েট করতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। কিন্তু তার পূর্বে এটি কি এবং কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। অন্যথায় স্প্যাম মার্কেটিং দিয়ে ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

Share this Post